
জুলুম ও ইনসাফ এই দুইটা সরাসরি ক্ষমতাবানদের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদল জুলুম করবে অথবা ইনসাফ করবে। এর বাইরে তাদের কোন অপশন নাই। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি-ছাত্রদল জুলুমের পথটাই বেছে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য ও ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ। ঢাকাহোটেল
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ ফেসবুকে লেখেন, আমাদের নামে আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি নিজেই ফেইক ফটোকার্ড বানাবে, এরপর সারাদেশে সেইটা ছড়ানোর দায়িত্ব নিবে ছাত্রদল ও বিএনপির এক্টিভিস্টরা, রক্ত হালালের বয়ান উৎপন্ন করবে, যদি থানায় অভিযোগ দিতে যাই যে আমার নামে এরকম প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশ উল্টা আমারেই থানায় আটকায় রেখে ছাত্রদলকে খবর দিবে। ছাত্রদল তার সমস্ত, রাগ, ক্ষোভ-ঘৃণা শত্রুতা একত্রিত কইরা বলে, ঐ যে যায় গুপ্ত ধর শালারে, বইলা থানার এড়িয়ার ভিতরে পেটাবে, হয়তো মাইরা ফেলবে।
গুপ্ত বলা নিয়ে কোন এলার্জি নেই উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, গুপ্ত সারাদিন বলেন, মাইক লাগায়া বলেন, সারাদেশে লিখে দেন, কিন্তু ভাই গুপ্ত বইলা আমারে মারবেন ক্যান? আমার প্রশ্ন করা, সমালোচনা করার নাগরিক অধিকার কাইরা নিবেন ক্যান? আমারে মাইরা আপনার মধ্যে কোন রিমোর্স নাই, আরও সেলিব্রেট করতেছেন এইটা নিয়ে আমার লড়াই, আর আমি এইটা চালাব
ডাকসুর এই নেতা বলেন, মারার সময় স্ক্রিপ্ট ও ফুটেজের প্রয়োজনেই বিএনপি-ছাত্রদলেরই কোন বড় নেতা আমার সামনে ঢাল হওয়ার যথোপযুক্ত অভিনয় করবেন। এরপর বাংলাদেশের মিডিয়া সেইটা ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ বইলা চালায় দিবে, মাইর খায়া যদি বেঁচে থাকি হাসপাতালে আসব, নাইলে কবরে। ওহহ হ্যা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রসাশন, পুলিশ ও আদালত কোন যায়গা থেকেই ন্যয়বিচার পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই ।
তিনি আরও বলেন, ইউনুসের আমলে অন্তত আমরা আশা করতে পারতাম সঠিক তদন্ত হবে, সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে, নিরপেক্ষতা থাকবে ইনসাফ নিশ্চিতের চেষ্টাটা হবে অন্তত, কিন্তু মহান নির্বাচিত টু-থার্ড মেজোরিটির সরকারে এসব কিছুই হবে না। দেখেন জুলুম ও ইনসাফ এই দুইটা সরাসরি ক্ষমতাবানদের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদল জুলুম করবে অথবা ইনসাফ করবে । এরবাইরে তাদের কোন অপশন নাই। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি-ছাত্রদল জুলুমের পথটাই বেছে নিয়েছেন ।
‘মর্নিং শোউজ দ্য ডে’ উক্তি তুলে ধরে ঢাবি ছাত্রশিবির নেতা মারুফ পোস্টের শেষে বলেন, জালিমদের বিরুদ্ধে মজলুমদের আওয়াজ উঠবে, এরপর হয়তো সে আওয়াজ থামিয়ে দেয়া হবে, ঘৃণা বাড়বে, তারপর ধীরে ধীরে প্রত্যেক বর্গ মজলুম হবে । ২০০৯-২৪ এর ৫ই আগস্ট পর্যন্ত এটাই হইছে। সামনেও এটা হবে।




