
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের কল্যাণে এক মর্মান্তিক ও বৈষম্যমূলক ঘটনার শিকার হয়েছেন আশফাক ফজল করিম শেখ নামে এক ব্যক্তি। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবিতে তিনি এখন পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মতো আশফাক শেখের স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনা। কল্যাণের একটি নতুন আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রপার্টি ডিলারের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কথোপকথনের এক পর্যায়ে যখন তার নাম ও ধর্মীয় পরিচয় সামনে আসে, তখনই বদলে যায় সব সমীকরণ। আশফাকের অভিযোগ, তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— ওই প্রকল্পে মুসলিমদের কাছে কোনো ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে না।
আশফাক শেখ তার অভিযোগে জানান, ফোনে কথা বলার সময় তিনি যখন সরাসরি জানতে চান ওই প্রকল্পে মুসলিমদের জন্য ফ্ল্যাট বরাদ্দ আছে কি না, তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অত্যন্ত কঠোর ও অপমানজনক ভাষায় তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে আশফাক বলেন, ‘‘আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক। সংবিধান আমাদের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। কিন্তু আজও যদি কাউকে তার ধর্মের কারণে বাসস্থান থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তবে সেই বৈষম্য শুধু ব্যক্তির নয়, বরং মানবিকতার পরাজয়। এই সংকীর্ণ মানসিকতা সমাজকে বিভক্ত করছে।’’
আশফাক জানান, তার কাছে ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে যে ধর্মের ভিত্তিতে তাকে ফ্ল্যাট দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। তবে অভিযোগকারী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, প্রথম দিকে স্থানীয় বাজরপেঠ পুলিশ স্টেশন তার অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিতে চায়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও যথাযথ সহযোগিতা না পেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হন।
আশফাক শেখ ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এটি কেবল একটি ফ্ল্যাট না পাওয়ার বিষয় নয়, এটি নাগরিক মর্যাদার লড়াই।
এই ঘটনাটি ভারতের শহুরে আবাসন বাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। অনেক মানবাধিকার কর্মী বলছেন, আবাসন খাতে এমন অলিখিত নিষেধাজ্ঞা সামাজিক বিভেদ বাড়িয়ে তুলছে। কল্যাণের এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও অধিকার কর্মীরা আশফাকের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে।
এখন দেখার বিষয়, অডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়। আশফাক শেখের এই লড়াই এখন কেবল একটি ফ্ল্যাটের জন্য নয়, বরং ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত সমান অধিকারের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
