
আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে থিংক ট্যাংকগুলোর ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক সহযোগিতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) কাবুলে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও আজারবাইজানের কৌশলগত গবেষণাকেন্দ্র ও থিংক ট্যাংকগুলোর প্রথম বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী বলেন, “আজ আমরা এখানে শুধু নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে সমবেত হইনি। বরং একটি অভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের বুদ্ধিজীবী ও চিন্তার নেতৃত্বদানকারী হিসেবে একত্রিত হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক, বিশেষ করে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ককে বর্তমান পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার পর্যায় থেকে গভীর ও টেকসই সংহতির পর্যায়ে উন্নীত করা।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান-মধ্য এশিয়া পরামর্শ সংলাপের প্রথম বৈঠক সফলভাবে আয়োজনের ফলে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতাগুলোকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় রূপ দিতে একটি বিশেষায়িত ও গবেষণাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বক্তব্যের আরেক অংশে মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক ও ট্রানজিট সুযোগ এবং নিজস্ব বয়ান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন, যেগুলোতে এ অঞ্চলের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের অভিন্ন আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত অর্থনৈতিক সরবরাহ শৃঙ্খল, চলাচল এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে গবেষণা ও অধ্যয়নকেন্দ্রগুলো শুধু একাডেমিক প্রতিষ্ঠান নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সংহতি জোরদারে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক কূটনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অংশীদার ও চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”
উজবেকিস্তানের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর সেন্ট্রাল এশিয়ার পরিচালক বলেন, কাবুলের এই বৈঠক শুধু বিশেষজ্ঞদের একটি সমাবেশ নয়। বরং এটি আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও আজারবাইজানের থিংক ট্যাংকগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথে একটি পদক্ষেপ।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাভলন ভাখাবভ টোলো নিউজকে বলেন, “আমরা এখানে এমন কিছু নীতিগত সুপারিশ ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরির জন্য সমবেত হয়েছি, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই উপযোগী হতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন আমরা আফগানিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন সহযোগিতা ও আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করছি।”
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত গবেষণাকেন্দ্রের আয়োজনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও আজারবাইজানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপত্তা, অর্থনীতি, ট্রানজিট, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র: টোলো নিউজ
