
সালিস বৈঠকে গিয়ে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ানোর একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক মিনিটের এ ভিডিওতে তাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়। এসময় এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘একটা কথাও কেউ বলবেন না। সবগুলারে খাইয়া হালামু। আমি এখানে আছি কেন?’
এরই মধ্যে এমপি হানজালার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে চিড়িয়াখানায় রাখার দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। এ বক্তব্যের পর থেকে তার ও পীরজাদা হানজালার মধ্যে একপ্রকার ‘বাকযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। তারা একে অপরকে বিভিন্ন পশুপ্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন।
গত (২০ জুন) পীরজাদা হানজালাকে ইঙ্গিত করে নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?’
তিনি আরও লেখেন, ‘এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে। হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধীদলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভূত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।’
পরে গতকাল রবিবার (২১ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁনের মন্তব্যের জবাব দেন পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। তিনি সে পোস্টে লেখেন, ‘রাশেদ খাঁন আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকব বাঘের সাথে— বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না!’
তিনি আরও লেখেন, ‘আর রাশেদ খাঁনকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে! চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ— গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে!’
এমপি হানজালার ফেসবুক পোস্টের পর গতকাল (২১ জুন) রাশেদ খাঁন আবার ফেসবুকে পোস্ট করেন। সে পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সাথে মিলেমিশে থানা হানজালা এখন বাঘের সাথে চিড়িয়াখানায় থাকতে চায়! হ্যাঁ, গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলে এসেছিলো, আমরা কিন্তু আন্দোলনে নাই! তারা আবার নাকি এখন বাঘের সাথে থাকতে চায়! বিশাল বিপ্লবী রয়েল বেঙ্গল টাইগার! অথচ এই বিপ্লবীর হুংকার তো ৫ আগস্টের আগে কখনো শুনি নাই! তখন বিড়াল হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সোফায় গিয়ে বসে থাকতো!
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, এখন বেশি বেশি মেকি হুংকার দিলে ফ্যাসিস্টদের সাথে বিচরণের অপরাধে প্রকৃত বাঘ কিন্তু এদের কলিজাও ছিড়ে খেতে দ্বিধা করবেনা। আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উড়ে আসা বসন্তের কোকিল নয়। দুই দিনের বৈরাগী এসব হানজালারা যেসময় ফ্যাসিস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসায় হাজিরা দিতো, আমরা সেসময় কোর্টে হাজিরা দিতাম। এরা যেসময় হাসিনার জিকির করতো, আমরা সেসময় বলেছি, এটা কি তার বাপের রাষ্ট্র? এরপর শেখ হাসিনাকে কটুক্তি দায়ে জেল খেটেছি। অথচ এরা এখন আইছে, বিএনপির কর্মীকে খেয়ে ফেলতে। এসব মানুষ খেকো হানজালারা হায়েনা হয়ে উঠতে চাইলে, হায়েনাকে থামানোর ঔষধও আমরা জানি।
