
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নীরব এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। স্কুল-কলেজে কমছে শিক্ষার্থী, আর বাড়ছে মাদরাসামুখী শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর তথ্য বলছে, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সাধারণ ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমলেও মাদরাসায় ভর্তি বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। শুধু গত চার বছরেই স্কুল-কলেজে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী কমেছে বলে উঠে এসেছে শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৪ প্রতিবেদনে। ২০২৫ সালের তথ্যেও একই প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাহীনতাই এর অন্যতম কারণ। শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মাদ শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলছেন, ২০১২ সালের পর থেকে স্কুল-কলেজের কারিকুলাম যুগোপযোগী না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে আবেদন হারিয়েছে।
তার মতে, পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষা চালু ও পরে বাতিল, নোট-গাইড নিষিদ্ধ করে আবার চালু করা এবং সৃজনশীল পদ্ধতির নামে নানা পরীক্ষামূলক পরিবর্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে অনেক পরিবার এখন ঝুঁকছে মাদরাসা কিংবা ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার দিকে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে চিত্র উঠে আসছে, সেটিকে কেবল সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ মাদরাসাসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, মাদরাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের বাড়তি আগ্রহ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন। বিশেষ করে নূরাণী শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদরাসাগুলো এখন অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও মত তাদের।
অনেক অভিভাবকের দাবি, স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার তুলনায় মাদরাসার নূরাণী শিক্ষায় শিশুদের ভিত্তি আরও শক্তভাবে গড়ে উঠছে। ফলে শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার দিক বিবেচনা করেও অনেক পরিবার এখন সন্তানদের মাদরাসামুখী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী ও স্থিতিশীল কারিকুলাম তৈরি করা না গেলে আগামী দিনেও স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থী ব্যাপক হারে কমার এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
