‘নবীর সন্তান নবী হতে আপত্তি নেই, পীরের সন্তান পীর হলে আপত্তি কেন?’—একজন পীরের এমন প্রশ্নের সমালোচনা করে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন মুফতি নোমান কাসেমী।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, অনলাইনে একটি ভিডিওতে ওই প্রশ্নটি শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রশ্নটা শুনতেই কলিজার ভেতরটা ধপ করে উঠেছে। চিৎকার করে কাঁদতে মন চাচ্ছে—লোকটা বললো কি?”
মুফতি নোমান কাসেমী বলেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় নবী হতে পারেন না। কোনো নবীও তাঁর সন্তানকে নিজের নবুওয়াতের আসনে বসাতে পারেন না। তাঁর দাবি, আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছায় যাকে নির্বাচন করেন, তিনিই নবী হন। এ ক্ষেত্রে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক মুখ্য নয়; বরং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাই মূল বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুনিয়াতে যেমন কোনো কোনো নবীর সন্তান নবী হয়েছেন, তেমনি কোনো নবীর সন্তান কাফেরও ছিলেন। তাই শুধু সন্তান হওয়ার কারণে কারও নবুওয়াত বা বিশেষ মর্যাদা নিশ্চিত হয় না—এমন বক্তব্যই তিনি তুলে ধরেন।
পোস্টে বাংলাদেশের পীর-মুরিদি ব্যবস্থার একটি অংশের সমালোচনা করে মুফতি নোমান কাসেমী অভিযোগ করেন, কোনো কোনো পীর নিজেদের অযোগ্য সন্তানকে পীরের আসনে বসান এবং সন্তানরাও বাবার আসন গ্রহণ করেন। তিনি এটিকে “জালিয়াতি, জবরদখল ও পীরালী ব্যবসা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করে লেখেন, “তওবা করুন, ঈমান নবায়ন করুন, ভুলভাল বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।”
উল্লেখ্য, মুফতি নোমান কাসেমী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেছেন। সেখানে তিনি যে বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, সেটি করেছেন এমন ব্যক্তির নাম বা ভিডিওর বিস্তারিত তথ্য পোস্টে উল্লেখ করেননি।
