ক্রিকেটে অবদান রাখলে গাড়ি-বাড়ি-প্লট, কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হয়েও কিছুই করা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আশা করি, আপনার মাধ্যমে এই সংসদে তাদের ব্যাপারে আলোচনা হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে সম্মাননা দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আপনার পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে।’
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “২০২৬ সালে মক্কা শরীফে ৪৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ১৩৩টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় পুরুষদের চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাউফলের সন্তান নুরুদ্দিন জাকারিয়া। আমার সৌভাগ্য, তাকে কাছে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৩০টা দেশের মধ্যে পুরুষদের তৃতীয় বিভাগে তৃতীয় হয়েছে আরেকজন মাহমুদুল হাসান। মেয়ে সন্তানেরা নারীদের তৃতীয় বিভাগে তৃতীয় হয়েছে মাসফিরা বিনতে মাহমুদ, নারীদের চতুর্থ বিভাগে তৃতীয় হয়েছে রাবিতা বিনতে রমজান। এই যে তিনজনসহ মোট প্রথম স্থান অধিকার করা চারজন আমাদের সন্তানদেরকে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে আসলে কী করতে পেরেছি, মাননীয় স্পিকার?”
আল-কুরআনের আয়াত উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, মহাগ্রন্থ আল কোরআন কেয়ামতের দিনে দুর্যোগে কোরআনের বাহককে বলা হবে, আল্লাহ তাআলার কাছে যে তাকে অলংকার পড়িয়ে দেওয়া হোক। আল্লাহ তাআলা তখন বলবেন, ‘তাকে সম্মান এবং মর্যাদার মুকুট পড়িয়ে দেওয়া হোক। তারা হচ্ছে কোরআনের হাফেজ’।’’
এমপি মাসুদ বলেন, “আজকে পয়েন্ট অব অর্ডারে তুলেছি, এজন্য তুলেছি যে, মাদ্রাসা উন্নয়ন এবং কারিকুলাম সংক্রান্ত আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। আমরা তাদের মানউন্নয়ন, কারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের কথা বলি।”
তিনি আরও বলেন, “এই পার্লামেন্টে মাননীয় সরকার দলীয় চিফ যখন ক্রিকেটে ভালো করার বিষয়টি বলেছেন, এখানে আমরা তাদেরকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছি। আর আমরা এই চারজনকে একটা অভিনন্দনও কি এখান থেকে জানাতে পারি না? আমাদের হীনমন্যতাটা ও সংকীর্ণতাটা কোথায়?”
কোরআনের এরকম প্রতিযোগিতায় যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন তাদের জন্য কিছু না করতে পারার বিষয় তুলে ধরে বলেন, “ওই পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেছি। বিমানবন্দরে শুধুমাত্র ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে কোনো রকম একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে তাদেরকে রিসিভ করা হয়েছে। অথচ ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক জগতে এরকম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা কিছু করেছেন, তাদেরকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গাড়ি দেওয়া হয়েছে, বাড়ি দেওয়া হয়েছে, প্লট দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাহলে কোরআনের এরকম প্রতিযোগিতায় যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন, আমরা কেন তাদের ব্যাপারে কিছু করতে পারলাম না?”
সবশেষে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি আশা করি, আপনার মাধ্যমে এই সংসদে তাদের ব্যাপারে আলোচনা হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে সম্মাননা দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আপনার পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে।”
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি।
