দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের পর আমেরিকার সঙ্গে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ সম্পর্ক উন্নয়নে আমেরিকার যুদ্ধকালীন নীতি পরিবর্তন, আফগানিস্তানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ করা আফগান সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আফগানিস্তানকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের নীতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তান আমেরিকাসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়। তার মতে, আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হলেও পশ্চিমা দেশগুলোর নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো যুদ্ধকালীন অবস্থানের প্রভাব রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তাই আফগানিস্তানের প্রতি যুদ্ধের সময়কার রাজনৈতিক নীতি ও আচরণও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আমেরিকার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার আগ্রহের কথাও জানান মাওলানা মুজাহিদ। কাবুলে আমেরিকার দূতাবাস এবং ওয়াশিংটনে আফগানিস্তানের কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালু হোক, এমন প্রত্যাশার কথা বলেন তিনি।
আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে মাওলানা মুজাহিদ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা আফগানিস্তানের সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া দুই পক্ষের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন আফগান সরকারের মুখপাত্র। তার অভিযোগ, দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এখনো অনেক পশ্চিমা গণমাধ্যম আফগানিস্তান ও তালেবান সরকারকে উপস্থাপন করছে।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক নীতির পাশাপাশি গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান বুঝতে সরাসরি যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সূত্র : আরটি ইন্ডিয়া
