নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসকে মানুষের জন্য সতর্কবার্তা ও আত্মশুদ্ধির উপলক্ষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘এখনো কি সময় হয়নি আল্লাহদ্রোহিতার নীতি থেকে ফিরে আসার?’
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পবিত্র কোরআনের সূরা আস-সাজদাহর ২১ ও ২২ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে বড় শাস্তির আগে দুনিয়াতেই বিভিন্ন ধরনের ছোট শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করান, যাতে তারা নিজেদের ভুল ও বিদ্রোহী নীতি থেকে ফিরে আসে।
নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ভয়াবহ এ দুর্যোগের সংবাদ ও দৃশ্য তাকে সূরা আস-সাজদাহর ওই দুই আয়াতের মর্মার্থ বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিয়ামতের দিনের প্রকম্পন ও ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া কোরআনের আয়াতগুলোও তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আফেন্দী তার পোস্টে দাবি করেন, নেপালের এই প্রাণঘাতী বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন নিহত এবং ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রবল স্রোতে কয়েক টন ওজনের বড় পাথরও ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ধ্বংসাত্মক এ দুর্যোগের দৃশ্য সামনে আসার পর ভূবিজ্ঞানীদের গবেষণা ও পরামর্শের চেয়েও তার কাছে মহান সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর ঘোষণা বেশি তাৎপর্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।
পোস্টে তিনি মানুষের আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একের পর এক শিক্ষণীয় ঘটনা ঘটলেও মানুষ তা দ্রুত ভুলে যায়। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মানুষের অন্তরের দাগ ও দুর্বলতাগুলোও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ক্ষমতা, নেতৃত্ব, মন্ত্রিত্ব ও কর্তৃত্বের মোহে মানুষ যেন মৃত্যুর অনিবার্য পরিণতি ভুলে না যায়—এমন আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে সততা, নীতি-নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং ক্ষমতার লোভের বিষয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নেপালের এই মহাবিপর্যয় মানুষের অন্তর-আত্মার ‘অসংখ্য ক্ষতিকর দাগ’ পরিষ্কারে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, এ ধরনের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রত্যেকের নিজের অবস্থান ও কর্ম নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত।
পোস্টের শেষে তিনি আল্লাহর কাছে সবাইকে বাস্তবতা অনুধাবন করে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দেওয়ার জন্য দোয়া করেন।
