Close Menu
Jubokantho24
  • প্রথম পাতা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • মুসলিম বিশ্ব
  • ইসলাম
  • আন্তর্জাতিক
  • অন্যান্য
Facebook X (Twitter) Instagram Threads
Facebook X (Twitter) Instagram
Jubokantho24
  • প্রথম পাতা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • মুসলিম বিশ্ব
  • ইসলাম
  • আন্তর্জাতিক
  • অন্যান্য
Jubokantho24
Home»অন্যান্য»খামারে শত শত গরু-মহিষ, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কলকাতার খামারিরা
অন্যান্য নিউজ ডেস্ক :By নিউজ ডেস্ক :

খামারে শত শত গরু-মহিষ, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কলকাতার খামারিরা

নিউজ ডেস্ক :By নিউজ ডেস্ক :মে ২৫, ২০২৬No Comments4 Mins Read
Share
Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

ভারতে ‘পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫০’ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। আর সেই সিদ্ধান্তের জেরেই কোরবানির ঈদের ঠিক আগে বড় সংকটে পড়েছেন প্রান্তিক গরু ও মহিষ খামারিরা। সরকারের কড়াকড়ির ফলে পশু বেচাকেনার বাজারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং কলকাতার উপকণ্ঠ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুর অঞ্চলের খামারিরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে।

সারা বছর ধরে গবাদিপশু লালন-পালন করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই কিছুটা বাড়তি লাভের আশা করেন খামারিরা। কিন্তু এবার সরকারের কঠোর আইন প্রয়োগের কারণে সেই সম্ভাবনাই কার্যত ভেস্তে গেছে। খামারে পড়ে রয়েছে গরু-মহিষ, নেই ক্রেতা। ফলে ব্যাংক ঋণ, মহাজনের সুদ এবং পশুর খাবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

খামারিদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের সব নিয়ম আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তাহলে এই আইন পহেলা জুনের আগে শিথিল রাখতে পারত। ঈদের সময়টুকুতে কিছুটা ছাড় দিলে তারা এত বড় ক্ষতির মুখে পড়তেন না। তাদের দাবি, তারা কখনও আইন অমান্যের পক্ষে নন, তবে হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্তে প্রস্তুতির সুযোগ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন।

তাদের মতে, প্রতি বছর কোরবানির ঈদের এক-দুদিন আগে পশুর বাজার জমে ওঠে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনি জটিলতার ভয়ে কোরবানির জন্য কেউ গরু কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই কম দামে কসাইদের কাছে পশু বিক্রি করছেন। যদিও গরু ও মহিষের মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও কোরবানির বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে পশু ছাড়তে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসছে না।

ভারতে গবাদিপশু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে মূলত ঘোষ ও যাদব সম্প্রদায়ের মানুষ জড়িত। বাংলার বহু প্রান্তিক ঘোষ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে যাদব সম্প্রদায়ের মানুষেরাও পশু ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নতুন পরিস্থিতিতে তারাও বড় সংকটে পড়েছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার খামারি মিনু ঘোষ গত ৩৫ বছর ধরে গরু পালন করছেন। তিনি জানান, বছরের অন্যান্য সময় কসাইদের কাছে পশু বিক্রি করলেও কোরবানির ঈদেই কিছুটা বেশি লাভের মুখ দেখতেন তারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,“নতুন সরকার এসে হঠাৎ করে এত কড়াকড়ি না করলেও পারত। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবসা চলছে। দুটো দিনের জন্য আইন কিছুটা শিথিল থাকলে আমরা এত সমস্যায় পড়তাম না।”

তিনি আরও জানান, পশুপালনের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাংক ঋণ কিংবা চড়া সুদে ধার নিতে হয়। গত বছর শুধু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার গরু বিক্রি না হওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মিনু ঘোষ বলেন, “সব গরু এখন খামারেই পড়ে রয়েছে। বিক্রি না হলে ব্যাংকের টাকা শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না। এত পশুর খাবারের জোগান দেওয়াও এখন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। কোরবানির সময় যে দামে গরু বিক্রি হয়, অন্য সময় সেই দাম পাওয়া যায় না। এখন কসাইরা যা দাম দেবে, তার ওপরই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।”

আরেক খামারি মৃদুলা ঘোষ জানান, বিয়ের পর থেকে গত ১৮ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই পশুপালনের আয় দিয়েই সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার চালিয়েছেন। তার মতে, সরকার চাইলে অন্তত এক বছরের সময় দিতে পারত।

তিনি বলেন, “সরকার আগে থেকেই ঘোষণা করতে পারত যে আগামী বছর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তাহলে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তে আমরা ভয়াবহ সমস্যায় পড়ে গেছি।”

পশুর খাবারের বাড়তি খরচের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, “এক বান্ডিল খড়ের দাম ১০০ টাকা, এক বস্তা বিচুলির দাম ৮০০ টাকা। কোথা থেকে এত খরচ চালাব? বাধ্য হয়ে গরুগুলোর খাবার কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মাঠে-ঘাটে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর উপায় থাকবে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই অঞ্চলে প্রায় একশো পরিবার পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের পুরুষরা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকলেও নারীরাই মূলত গরু-মহিষ দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। এখন তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা—কীভাবে ঋণ শোধ করবেন এবং পরিবার চালাবেন।

কোরবানির ঈদের মতো উৎসবের মৌসুমেও তাই আনন্দের বদলে হতাশা আর অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে এসব প্রান্তিক খামারি পরিবারকে। এখন তাদের একটাই প্রশ্ন—এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে কে?

Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
নিউজ ডেস্ক :

Related Posts

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ

জুলাই ৭, ২০২৬

চাঁদে ফুটবল পাঠাবে নাসা, শর্ত জিততে হবে বিশ্বকাপ

জুলাই ২, ২০২৬

আফগানিস্তানকে রপ্তানিভিত্তিক দেশে পরিণত করতে কাজ করছে ইমারাতে ইসলামিয়া: মাওলানা হানাফী

জুলাই ১, ২০২৬
Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
  • প্রথম পাতা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • মুসলিম বিশ্ব
  • ইসলাম
  • আন্তর্জাতিক
  • অন্যান্য
© ২০২৬ Jubokantho24. Designed by Naim.

Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.