গত দুই বছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের সময় যত মানুষ মারা গিয়েছিলো আওয়ামীলীগের তার প্রায় তিনগুণেরও বেশি নেতাকর্মী খুন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও আ.লীগপন্থি এক্টিভিষ্ট শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি লেখেন,“আওয়ামীলীগকে যেসব কারণের জন্য দায়ী করা হয়েছিল তার প্রত্যেকটা ঘটনাই কি গত দুই বছরে আরও বাজেভাবে ঘটেনাই? মানুষ পিটায়ে মারা, খুন, ধর্ষণের এত বাজে অবস্থা, মাজার থেকে লাশ তুলে পোড়ানো, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে মানুষ খুন করা, জঙ্গি আতঙ্ক, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাসের সংকট-এইসবের কোনটা আগের চাইতে আরও বেশি খারাপ হয়নাই? যদি নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করতে বলি, সত্যি করে বলেন তো কোন রেজিমে সাধারণ জণগণ বেশি সাফার করসে? আওয়ামীলীগের কোনো খ্যাত কি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু কোটায় ইউনিয়ন, গ্রামের নাম নিজের গুষ্টির নামে করসিল?”
তিনি লেখেন,“হামলা-মামলা দিয়ে নারীদের যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, হচ্ছে, যেইভাবে এখন রাস্তাঘাটে নারীদের গায়ে হাত তোলা হয় আগে এত স্বাভাবিক ছিল এইসব??? আগেই ভালো ছিলাম বললে তো পশ্চাৎদেশ জ্বলে যায় আপনাদের, তাহলে এখন ভালো নাই কেন??? আপনারা যারা চেটে চেটে কোটিপতি হয়েছেন তাদের হিসাব বাদ, সাধারণ জনগণ কি বর্তমানে আগের চাইতে ভালো আছে?”
পুলিশ সদস্যরা রাজনৈতিক বক্তৃতাবাজি করছে অভিযোগ তুলে ঢাবির সাবেক হল সংসদের ভিপি লেখেন,“ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে যতগুলো মেধাবী ছেলেমেয়েকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সমকক্ষ রিপ্লেসমেন্ট কি দিতে পেরেছে সরকার? যে ছেলেমেয়েগুলো দেশকে সার্ভ করতে পারত দারুণভাবে, তাদের পুরো পরিবারসহ পথে বসে যেতে হয়েছে অনেককে। একইসাথে সেনাবাহিনী, পুলিশ সদস্যরা বাইরে রাজনৈতিক বক্তৃতাবাজি করছে, অথচ পিজিআরে দায়িত্ব পালন করা, পুলিশে প্রথম হওয়া ছেলেগুলোকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, মাসের পর মাস জেলে আটকে রাখা হয়েছে অন্যায়ভাবে। এইগুলা কি স্বাভাবিক ঘটনা?”
পোস্টে ইমি আরও লেখেন, “আগে যাদের কথায় কথায় আসমান কেঁপে উঠত, বিদেশি লবি দিয়ে যারা আন্তর্জাতিক মহলে আওয়ামীলীগের গুষ্টি উদ্ধার করত, গত দুই বছরে তারা কি এমন জাদুর প্রদীপ পেলো যে মব ভায়োলেন্স, আইনশৃঙ্খলা, নারী নিপীড়নের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা বলতে গেলে শূন্য? প্রশ্নগুলোর উত্তর সবাই জানে। জাস্ট সাহস করে কেউ বলতে পারতেসে না। যখন পারবে তখন অনেক বেশি দেরি হয়ে যাবে।”
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি সবশেষে লেখেন,“যতজন নিজেদের অধিকার আদায়ে ভয়েস রেইজ করবেন- আমি তাদের প্রত্যেকের সাথে আছি। আমার কারণে আমার দেশের সার্বভৌমত্বের যে করুণ হাল হয়েছে, তার প্রায়শ্চিত্ত একটাই। দেশটাকে, দেশের মানুষ গুলোকে বাঁচানো। আমার জায়গা থেকে আমি সেই লড়াই চালিয়ে যাব। আপনাদের বোধোদয় হোক অনেক বেশি দেরি হয়ে যাবার আগেই।”
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলায় ৮০০ থেকে ১,৬০০ জন নিহত এবং ১৪,০০০ থেকে ২০,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
