
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার (৫ জুলাই) দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মাদরাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকনসহ কয়েকজনকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে একাধিক দফা বৈঠক ও আলোচনার পর মুহতামিমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে মুহতামিম, সাধারণ সম্পাদক এবং পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এ সময় মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য দেওভোগ এলাকার সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলও বন্ধ করে দেন।
বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে যান বিএনপি নেতা জাকির খান। তার সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা ফেরদৌস এবং অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মুফতি হারুন অর রশিদও উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, স্থানীয় আলেম-উলামা এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ বৈঠকের পর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের জিহাদীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা মুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
মাদরাসার একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের একটি কমিটি গঠনের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগে মুফতি হারুন অর রশিদকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, বিএনপি নেতা জাকির খানের মধ্যস্থতায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।