নেপাল ও চীনে গত সপ্তাহের ভূমিধস ও প্রলয়ংকরী বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে। উভয় দেশে এখনও প্রায় ৪৪০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পানির প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বহু মানুষ তাৎক্ষণিক আটকে পড়ে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত নেপালে অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ এবং তিব্বতে ৫৪৬ জন বলে জানা গেছে।
নেপালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদী অববাহিকা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতুর কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের তিব্বতেও উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল, তীব্র স্রোত ও সরু গিরিখাতের কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সপ্তাহব্যাপী উদ্ধার অভিযান চললেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং নতুন ভূমিধসের আশঙ্কায় পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
