
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচায় বিধিনিষেধের কারণে বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের বিপুল সংখ্যক হিন্দু খামারি ও পশু ব্যবসায়ী। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
পশ্চিমবঙ্গে বহু হিন্দু খামারি সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন, ঈদের মৌসুমে গরু বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশু কোরবানিতে বিধিনিষেধের ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। গরু বিক্রি করতে না পারলে ঋণের দায়ে বড় বিপদে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ অবস্থায় আগামী দু-তিনদিন আইন কিছুটা শিথিল করার জন্য বিজেপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুকুরের হিন্দু গরু খামারিরা। তাদের দাবি, যে গরুগুলো বাড়িতে রয়েছে, এই ঈদে সেগুলো যেন বিক্রি করতে পারেন। ঈদের পরে স্থায়ীভাবে এই আইন কার্যকর করা হোক।
এ বিষয়ে এক বয়স্ক নারী খামারি বলেন, নতুন সরকার আসার পর হঠাৎ করে এতটা কষ্ট দেওয়া উচিত হয়নি। ৩৫ বছর ধরে আমরা ব্যবসা করছি। এজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার নিতে হয়েছে। নতুন সরকারের উচিত ছিল নির্দিষ্ট একটা সময় দেওয়া। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তারা তো ছাড় দেবে না। তাছাড়া পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে, তাদের কী হবে?
অন্য এক গরু খামারি অরূপ দাস বলেন, এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ রয়েছে। হিন্দু-মুসলিম নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। এই সম্পর্কগুলো ভাঙছে রাজনৈতিক দল। এতদিন তো ভালোই ছিল, এই সরকার এসে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কষ্ট কি তারা বুঝতে পারছে?
করিম মোল্লা নামে এক মুসলিম ক্রেতা জানান, এবার গরু কোরবানি হবে না, কারণ আশপাশের সব গরুর হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সবাই বলছে, এসব নিয়ে তর্ক-বিতর্কে না যেতে। প্রতি বছর আমরা গরু কোরবানি দেই, এবার ছাগল কোরবানি দেবো।
