
শিশুকে খাওয়ানো, শান্ত রাখা কিংবা কান্না থামাতে অনেক অভিভাবকই স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের সাহায্য নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা শিশুর ভাষা শেখা, মনোযোগ ও মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশু যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে তার জ্ঞানীয় বিকাশ ও ভাষা শেখার গতি কমে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, দিনে এক থেকে চার ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে কথা বলতে শেখার বিলম্ব এবং মনোযোগের ঘাটতির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় এক থেকে দুই বছর বয়সী এক হাজারের বেশি শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যেসব শিশু দিনের বড় একটি অংশ মোবাইল বা ট্যাবের পর্দার সামনে কাটায়, তাদের অনেকের ভাষা বিকাশ ও সামগ্রিক মানসিক উন্নয়ন বয়স অনুযায়ী প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্মার্টফোনের উজ্জ্বল আলো, দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য এবং ক্রমাগত উদ্দীপনা শিশুর মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়াতে পারে। এতে স্ক্রিনের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া কমে যায়। ফল হিসেবে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং আবেগ প্রকাশের দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, শিশুদের ভাষা শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, খেলাধুলা করা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করা। কিন্তু এসবের পরিবর্তে যদি অধিকাংশ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটে, তাহলে ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে শিশু বিশেষজ্ঞরা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে খুব সীমিত সময়ের জন্য মানসম্মত শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখানো হলেও তা অভিভাবকের উপস্থিতিতে হওয়া উচিত। পাশাপাশি শিশুর সঙ্গে গল্প করা, বই পড়া, গান শোনানো, খেলাধুলা এবং পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, অটিজম বা অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার সঙ্গে স্ক্রিন ব্যবহারের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম যে শিশুদের ভাষা, মনোযোগ ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ক্রমেই ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে।
