আইফোনের শখ পূরণের অন্ধ মোহে এক বাবা তার নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কেনেন।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।
অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেই শিশুর বাবা মারুফ মুন্সি বলেন, ‘আমি আমার সন্তান বিক্রি করিনি। যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে সন্তান বিক্রির কোনো চুক্তিও হয়নি। সন্তানটিকে শুধু লালন-পালনের জন্যই তাদের কাছে দিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে কথা ছিল, তারা যেন আমার সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা না করে। এ কারণেই মূলত কিছু টাকা নেওয়ার বিষয়টি এসেছিল।’
মানুষের মধ্যে কথা উঠেছে যে সন্তান দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মারুফ বলেন, ‘বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটে নাই। আমি একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছিলাম এবং সেখানে টাকার কথা উল্লেখ ছিল। তবে তা এক লাখ টাকা নয়, আমি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কিছু দেনা ছিল, যা পরিশোধ করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই ভেবেছিলাম কিছুদিন পর সন্তানকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসব। সন্তান বিক্রির কোনো উদ্দেশ্যে বা স্বার্থে আমি তাকে দিইনি। এখন বিষয়টি নিয়ে চারপাশে অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি যে কাজটি আমার ভুল হয়েছে। এই মুহূর্তে পরবর্তীতে কী করব, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না।’
এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।
ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।
