
হোয়াইট হাউসের কাছে ভয়াবহ গোলাগুলির সময় ভেতরেই ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের অদূরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে এক বন্দুকধারীর গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সন্দেহভাজন বন্দুকধারী।
আল-জাজিরা বলছে, ঘটনার পর ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, প্রেসিডেন্ট অক্ষত আছেন। নিরাপদে আছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম নাসির বেস্ট। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ এর আগেও সিক্রেট সার্ভিসের নজরদারিতে ছিলেন এবং তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে একটি মনোরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
সিক্রেট সার্ভিস জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে হোয়াইট হাউসের কাছে ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে গুলি ছোড়েন ওই ব্যক্তি। এ সময় সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা পাল্টা গুলি চালান। গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁকে দ্রুত পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।
গুলির ঘটনায় একজন পথচারীও আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে, তাদের কোনো সদস্য এ ঘটনায় আহত হননি।
গুলির ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসের লনে অবস্থান করা সাংবাদিকদের দ্রুত প্রেস ব্রিফিং কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াং। ভিডিওটিতে গুলি চলার মুহূর্তটিও দেখা যায়। এ সময় সেলিনা মাথা নিচু করে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন।
ওই পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, ‘আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য আইফোনে ভিডিও করছিলাম। ঠিক তখনই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল, একসঙ্গে অনেক গুলি ছোড়া হচ্ছে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলেন। আমরা এখন সেখানেই আছি।’
ঘটনার পর পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের আশপাশের কয়েকটি সড়ক বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
