হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জোন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যদি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলেমদের বেছে বেছে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের দাবি রাখে।
কোথাও কোথাও নাকি আগেই বলা হচ্ছে, “অমুককে রাখা যাবে না, কারণ সে খেলাফত মজলিস করে। কয়েকদিন পরে তো মামুনুল হককে হেফাজত থেকেই বাদ দেওয়া হবে, তাই তাঁর দলের লোকজনকেও কমিটিতে রাখা যাবে না!”
কী অদ্ভুত যুক্তি!
একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হেফাজতে ইসলামের ওপর যখন মামলা-গ্রেপ্তারের খড়্গ নেমে এসেছিল, তখন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই হেফাজতের দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁরাও গ্রেপ্তার ও মামলার শিকার হয়েছেন। ২০২১ সালে মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মুফতি শরাফত হোসাইনসহ একাধিক হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে হেফাজত-সংক্রান্ত ২০১৩ সালের মামলাসহ অন্যান্য মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আর সেই সময় গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মধ্যে সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক যেমন ছিলেন, তেমনি বর্তমান মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদও ছিলেন। মাওলানা শরীফুল ইসলাম, মাওলানা এহসানুল হক এবং এমনকি এই অধমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তখন কিন্তু প্রশ্ন ওঠেনি, কে কোন দলের?
তখন পরিচয় ছিল একটাই: হেফাজতের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আলেম।
আজ যদি সেই একই রাজনৈতিক পরিচয়কে অজুহাত বানিয়ে হেফাজতের জোন কমিটি থেকে কাউকে বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে:
যে পরিচয়ের কারণে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জেল খাটতে হলো, সেই পরিচয়ই আজ হেফাজতের কমিটিতে অযোগ্যতার কারণ হয়ে গেল কীভাবে?
আরও আশ্চর্যের বিষয়, যারা আকাবিরের নাম নেন, তারা কি আকাবিরের ঐক্যের শিক্ষাটাও মনে রাখবেন না?
হেফাজতে ইসলাম যদি সত্যিই উলামায়ে কেরামের বৃহত্তর ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হয়, তাহলে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাছাই করে কাউকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি হেফাজতের ঐক্যকে শক্তিশালী করবে, নাকি দুর্বল করবে, সেটি ভেবে দেখা দরকার।
আর যদি সত্যিই সরকারের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু মওলবীর মাধ্যমে এই বিভাজন পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গভীরভাবে ভাবার দাবি রাখে।
কার স্বার্থে এই বিভাজন?
কেন আলেমে আলেমে দূরত্ব তৈরি করা হচ্ছে?
যারা কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, আজ তাদেরই কেন সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে?
আর এই বিভাজনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কারা?
হেফাজতের শক্তি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে নয়। হেফাজতের শক্তি হলো উলামায়ে কেরামের ঐক্য, পারস্পরিক সম্মান এবং দ্বীনের স্বার্থে সম্মিলিত অবস্থান।
তাই হেফাজতের কমিটি হোক নীতি, যোগ্যতা, আমানতদারি ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
দল দেখে নয়, দ্বীনের জন্য কার অবদান কী, সেটি দেখে মূল্যায়ন হোক।
বিভাজন নয়,
উলামায়ে কেরামের ঐক্যই হোক হেফাজতের শক্তি।
